সাওঘাট পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে অনিয়ম

ইউনিয়ন গোলাকান্দাইল দুর্ভোগ ফিচার

অনলাইন রিপোর্ট: রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সাওঘাট এলাকায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর নানা অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। পল্লী বিদ্যুতের নতুন কোনো সংযোগ পেতে গ্রাহকদের পদে পদে হয়রানি ও ঘুষ ছাড়া সংযোগ হয় না তার অভিযোগ উঠেছে । এছাড়াও পল্লীবিদ্যুতের যত্রতত্র ক্রটিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে প্রতি বছরই ৫ থেকে ৭ জন করে মানুষ মারা যাচ্ছে। তীব্র তাপদাহ এর সাথে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে জনসাধারণ। কোনোভাবেই থামছে না পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে শিল্প কারখানার উৎপাদনেও ব্যাহত হচ্ছে। এমনেতেই প্রি-পেইড মিটার আবারও বৈদ্যুতিক লোডশেডিং। সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ভোগান্তির আরেক নাম বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার। ভুয়া বিলের হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে প্রি-পেইড এসেও মিলেনি গ্রাহকের মুক্তি। কার্ডে টাকা রিচার্জ করার আগেই তাদের ভেলকিবাজিতে নানা নামে কেটে নেয়া হয় টাকা। পল্লীবিদ্যুতের নতুন সংযোগ পেতে একজন গ্রাহকের অনেক দিন সময় লাগে। আর ঘুষ দেওয়া হলে কিছু দিনের মধ্যেই মেলে সংযোগ। এছাড়া যাদের খুঁটি শক্ত কিংবা জোর তদবির করতে পারেন তাঁরা মাত্র এক মাসের মধ্যেই সংযোগ পেয়ে যান। তবে টাকা দিয়েও বিদ্যুতের গ্রাহকদের ভোগান্তি থেকে যায় । ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিল্প-কারখানাগুলো পঙ্গু করে দিয়ে একটি চক্র মূলত সরকারের বিরুদ্ধে মরণ খেলায় মেতেছে। প্রি-পেইড মিটার ও লোডশেডিংয়ে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ বার লোডশেডিং দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ যন্ত্রণায় ভুগছেন শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা। ছোট ছোট অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা তাদের কাজ রেখে রাস্তায়, খেলার মাঠে, বাড়ির ছাদে বসে সময় কাটিয়েছেন। গোলাকান্দাইল এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান ইসরাফিল হোসেন জানান, আমরা প্রি-পেইড মিটার নিয়ে কেন এতো কষ্ট করবো। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং নারায়ণগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সাওঘাট পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে। শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত ছিল সব চেয়ে বেশি লোডশেডিং। এছাড়া প্রতিদিনই লোডশেডিং থাকে। ইউনিটি আই হসপিটাল ও ফ্যাকো সেন্টারের ম্যানেজার সুমন জানান, শনিবার রাত থেকে রবিবার বিকাল পর্যন্ত বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা ছিল ভয়াবহ। আর এ লোডশেডিং এর সময় জেনারেটর চালু ও বন্ধ করতে গিয়ে জেনারেটর চালকও অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। তাছাড়া এ ধরনের লোডশেডিংয়ে রোগীর অপারেশনসহ হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রতিদিন পল্লীবিদ্যুতের লোডশেডিং ভেলকিবাজিতে গ্রাহকরা কষ্ট করছেন, আর এদিকে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ এর ডি.জি.এম মোঃ লুৎফর হাসান লোডশেডিং বিষয়টি তিনি জানেন না।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডি.জি.এম মোঃ লুৎফর হাসান বলেন, লোডশেডিং আমাদের নেই তবে ৩৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে একজনের সমস্যা হওয়ায় লাইন বন্ধ করে তার লাইনের কাজ করা হয়েছে।

এছাড়া সাওঘাট পল্লীবিদ্যুৎ (নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ )অফিসের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ও লোডশেডিং দূর করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রহকবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *